গতকাল এক আলোচনা সভায় এক বিখ্যাত পর্বতারোহীর কাছে শৃঙ্গ জয়ের গল্প শুনছিলাম মোহিত হয়ে। হিমালয়ের কোন শৃঙ্গের অভিযানের গল্পের সাথে শেরপা দের কথা যেন রূপকথার গল্পের সোনার কাঠি আর রূপোর কাঠির মত। একটা থাকলে আর একটা থাকতেই হবে। পর্বতারোহণে শেরপাদের অপরিহার্য্য ভুমিকার কথা সফল, দুর্ঘটনার কবল থেকে বেঁচে ফিরে আসা বা অভিযানে অসফল সমস্ত পর্বতারোহী দের বর্ণণায় বার বার ফিরে আসে। সেখানে দেখা যায় বিভিন্ন সময়ে শেরপা দের নির্দিষ্ট কয়েকটা নাম ঘুরে ঘুরে আসে, পেম্বা, দাওয়া, দোরজি, পাসাং। । সত্তরের দশকের বিদেশী অভিযাত্রীর ডায়েরীর পাতাতেও আছে এরা আবার নব্বই দশকের ভারতীয় অভিযাত্রীর সফলতার কাহিনীতেও এরা স্বমহিমায় ঊজ্জ্বল। এ কেমন করে সম্ভব? তবে কি এদের বয়স বাড়ে না ? বড় অদ্ভুত তাই না! সত্যিই এদের বয়স বাড়ে না। কারণ কালের নিয়মে শৃঙ্গজয়ী অভিযাত্রীর পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠা শেরপা দের নামকরণ আজও শেরপা জনজাতির সনাতন সংস্কৃতির নিয়ম মেনে হয়। শেরপা সংস্কৃতির এই নিয়মের পিছনে লুকিয়ে আছে এই জনজাতির প্রকৃতি উপাসনা আর জ্যোতিষচর্চার সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির মেলবন্ধন। শেরপা শিশুর নামকরণের সময় তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়।শিশুর জন্ম সপ্তাহের কোন দিন হয়েছে, শিশুটি র জ্যোতিষ লোকের অবস্থান এবং শিশুর নামের অলংকরণ। যেমন -
Nima - যে শিশুর এই নাম রাখা হবে তার জন্ম রবিবার এবং সে সূর্য্যের জন্য নিবেদিত
Dawa - সোমবারে জন্মানো এই শিশু চন্দ্রের কাছে নিবেদিত
Mingma- মঙ্গলবারে জন্ম, মঙ্গল গ্রহের আনুগত্য তার বিধিলিপি
Lakhpa- বুধবারে জন্মে এই শিশু বুধ গ্রহের নিয়িন্রণাধীন
Phurba- বৃহস্পতিবারে জাত, ওই গ্রহের অনুগত
Pasang- শুক্র বারে জন্মানো এই শিশুর ভাগ্য শুক্র গ্রহের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
Pemba- শণি বার জন্ম তার গ্রহরাজ নেন ভার
এবার আসা যাক অলঙ্করণে। নামকে অলঙ্কৃত করা হয় শিশুর ভবিষ্যৎ জীবনকে সুরক্ষিত ও মঙ্গলময় করার ভাবনা নিয়ে। Middle name হিসেবে প্রধানতঃ এই অলঙ্কার ব্যবহৃত হয়।
Norbu - মূল্যবাণ পাথর
Tashi - সৌভাগ্যবাণ
Dorji - বজ্রকঠিন
Tenzing - বৌদ্ধ ধর্মের অনুগামী
Tshering - দীর্ঘায়ু
এইভাবে একজন শেরপা র নামের মধ্যে লুকিয়ে থাকে তার জন্মবৃত্তান্ত আর তাকে নিয়ে দেখা তার অগ্রজদের স্বপ্নের খতিয়ান।
Lakhpa Tenzing Sherpa (বুধবারে জাত বৌদ্ধ ধর্মাচারী শৃঙ্গজয়ী শেরপা) ১৯৬৮
Lakhpa Tenzing Sherpa (বুধবারে জাত বৌদ্ধ ধর্মাচারী শৃঙ্গজয়ী শেরপা) ১৯৮২
এই ভাবে যুগ যুগ ধরে শেরপাদের নামকরণের বিধির মধ্যে বেঁচে আছে হিমালয়ের কোলে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা প্রবল সংগ্রামী এক জনজাতি।বছরের পর বছর একই নামের শেরপার উল্লেখ পাওয়া যায় হয়তো বা একই কিংবা বিভিন্ন শৃঙ্গ জয়ের অংশীদার হিসেবে। একই নামের শেরপা কে অভিযানে হারানোর পরও কোন অভিযাত্রী দল ফিরে পায় নতুন করে। শেরপাদের বয়স বাড়ে না।
অনেক অজানা কে জানার গল্প । আরও জানার অপেক্ষায় রইলাম ম্যাডাম।🙏
ReplyDeleteহিমালয়ের স্নেহধন্য সঙ্গ্রামী জনজাতি শেরপাদের সম্পর্কে জেনে সত্যিই অভিভুত হলাম। নবজাতকের নামকরনের মধ্যে সাপ্তাহিক বার, জ্যোতিষ লোকের অবস্থান আর অলঙ্করণ কে মিলিয়ে "সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে" আবহমান কাল ধরে। তাইতো শেরপা রা হারিয়ে যান না, নতুন রূপে ফিরে আসেন। জাতকের কাহিনী র মতো এই নামের মধ্যে ই তাঁরা ফিরে ফিরে আসার স্বপ্ন সার্থক করেন। ধন্য এই জনজাতি! ধন্য লেখিকা, যিনি এত সুন্দর করে তাদের অসামান্যতা অনুভব করেছেন।
ReplyDeleteSherpa janajatir namkaroner itihaas jene samridhyo o dhanya holam.kato alpo kothay Sherpa Der mahima ke chitrito korechhen lekhika tar lekhoni shaktir Dwara ta sattyi prosongsha r daabi raakhe.Sherpa Sanskritir ei notun adhaya jene wridhyo holam.
ReplyDeleteAkdom ojana koto katha janlam. Ki bhalo je laglo!!! Sherpa der Naam karan ar tar alankaran er emon tothyo shuney riddho holam.
ReplyDeleteচমকপ্রদ ব্যাপার। জেনে খুব ভালো লাগলো। আর সত্যিই যেন এরা সময় কে জয় করেছে।
ReplyDeleteধন্যবাদ ম্যাডাম। লেখাটি পড়ে এবং শেরপাদের সম্বন্ধে জেনে সত্যি খুব ভালো লাগলো।
ReplyDeleteThank you for your beautiful and knowledgefull information.
ReplyDeleteOnek abhinandan o Amar Pronaam janai
Thank you Madam. Ek onno experience holo. Onek ajana information pelam, really wonderful. Sherpa der bishoye ar Himalayan related matter e aro onek kichu janar opekkhay thaklam.
ReplyDeleteNiladri
ReplyDeleteনামকরশ যে কত গভীর হয় তা লেখাটা না পড়লে জানতাম না। সত্যি "শেরপাদের বয়স বাড়ে না।"
ReplyDeleteতথ্য অজানা ছিল........ নতুন কিছু জানতে পেরে ভালো লাগলো। আরো কিছু জানার অপেক্ষায় রহিলাম।
ReplyDeleteঅজানা অনেক কিছু জেনে খুব ভালো লাগলো।।। লেখাটা সত্যিই খুব অসাধারণ,বেশ গল্প এর মত লাগলো।।।। আরও কিছু লেখা পড়ার ,অ অজানা কে জানা এর অপেক্ষায় থাকবো।।।।
ReplyDeleteKoto ta research korle eigulo share kora jay... Abornoniyo
ReplyDelete