অখ্যাত বা তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত দেবস্থানের মহিমা এবং ভক্তদের অটল বিশ্বাসের মেলবন্ধনে বয়ে চলে ধর্মচর্চার শাশ্বত সংস্কৃতি। তথাকথিত আধুনিক জীবন খুব বেশী প্রভাব ফেলতে পারেনা বিশ্বাসের এই সুপ্রাচীন ধারার উপর। আধুনিক চিন্তাধারায় কোন ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা মিললেও ভক্তের বিশ্বাস এর ভীত তাতে একটুও নড়ে না। এমনই এক ঘটনার নিদর্শণ পাওয়া যায় গাড়োয়াল হিমালয়ে অলকানন্দা নদীর উপর অবস্থিত ধারীদেবীর মন্দিরে।
ধারীদেবী সমগ্র চারধাম ক্ষেত্রের ধাতৃমাতা হিসাবে পূজিত হন। ধারীদেবী, মাতা শক্তির দেহের উপরের অংশ। দেহের নীচের অংশ মাতা কালীকা রূপে কালীমঠে পূজিত হন। মন্দিরটি আগে অলকানন্দার পাড়ে অবস্থিত ছিল, অলকানন্দার উপর তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের উদ্দেশ্যে বাঁধ দেওয়া হলে ধারীদেবী কে তাঁর মন্দির থেকে স্থানান্তরিত করা হয় ২০১৩ সালের ১৬ইজুন। স্থানীয় মানুষের স্থির বিশ্বাস এই স্থানান্তরের এক ঘন্টার মধ্যে কেদারক্ষেত্রে প্রলয়ের সৃষ্টি হয় এবং সমস্ত অঞ্চল তছনছ হয়ে যায়। এ প্রলয় ধাতৃমাতার বজ্রনির্ঘোষ। ধারীদেবীর মন্দিরের নির্মাণ শৈলীর বৈশিষ্ট্য হল মূর্তিটি একটি চওড়া পাথরের গায়ে প্রতিষ্ঠিত এবং মন্দিরটির কোন ছাদ নেই। মন্দিরটির অবস্থান এমনই যে সারাদিন সূর্য্যের আলো দেবীমূর্তির উপর পড়ে। ভক্তের বিচারে ধারী দেবী চলমান জীবনের ধারার প্রতীক। তাই সূর্য্যের আলোর গতির সঙ্গে পালটে যায় দেবীর মুখের গড়ন। প্রভাত সূর্য্যের নরম আলোয় দেবীর মুখ শিশুর মত সরল, মধ্যাহ্ণে দেবী পূর্ণযৌবনা, লজ্জাবনতা এবং সূর্য্যাস্তের সময় দেবী বার্ধ্যক্যে উপনীতা।
বিজ্ঞানীদের মতে এই পরিবর্তনের রহস্য লুকিয়ে আছে মন্দিরের নির্মাণশৈলী র উপর। মন্দিরের ছাদ না থাকায় বিভিন্ন সময় সূর্য্যের আলো বিভিন্ন কোণে দেবীমূর্তীর উপর পড়ে এবং পিছনের পাথরের দেওয়ালের ছায়াও দেবীমূর্তীর মুখের গড়ন পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা যাই হোক না কেন তা ভক্তদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং অগণিত ভক্তের দল প্রতিদিন বিভিন্ন সময়ে দেবীর দর্শণ করেন দেবীর মুখের গড়নের এই চমৎকার দেখার জন্য। সন্তান কামনায় প্রভাতকালে, দাম্পত্য কামনায় মধ্যাহ্ণে এবং মোক্ষকামনায় অপরাহ্ণে দেবীদর্শণের রীতি চলে আসছে আবহমান কাল ধরে।
ছায়া হোক বা বিশ্বাস প্রতিদিনের এই চমৎকার ঘটে চলে নির্ভুল নির্ঘণ্ট মেনে। নিয়মমাফিক ঘটে চলা প্রাকৃতিক ঘটনা আর তার উপর গড়ে ওঠা বিশ্বাসের ভীত, সৃষ্টি করে প্রকৃতিকে ঈশ্বররূপে আরাধনার এক সনাতন সংস্কৃতি যার নাম - ভারতবর্ষ।
বাহ্! ভারি সুন্দর তো!!
ReplyDeleteছাদ বিহীন মন্দিরে রুটিন মেনে পুজো,,,
খুব ভালো লাগল ।
🙏🙏🙏
ReplyDeleteকি সুন্দর মন্দির🙏
ReplyDeleteঅজানা এই দেবীমূর্তির ও মন্দিরের কথা জেনে শ্রদ্ধায় মন ভরে গেল। নমস্কার জানাই প্রকৃতির ও পৃথিবী র এই ধারিকাশক্তি কে। প্রকৃতির ওপর মানুষের আগ্রাসন কে রোধ করতে তিনি যেন আমাদের মন পরিবর্তন করে পরিত্রাণ করেন এই প্রার্থনা করি।
ReplyDeleteঅজানা এই দেবীমূর্তির ও মন্দিরের কথা জেনে শ্রদ্ধায় মন ভরে গেল। নমস্কার জানাই প্রকৃতির ও পৃথিবী র এই ধারিকাশক্তি কে। প্রকৃতির ওপর মানুষের আগ্রাসন কে রোধ করতে তিনি যেন আমাদের মন পরিবর্তন করে পরিত্রাণ করেন এই প্রার্থনা করি।
ReplyDeleteবাহ,দারুন তো, তুমি গ্যাছো? ইচ্ছে রইল।
ReplyDeleteDharidevi r chokshu duti advutvabe khub i jibonto,
ReplyDelete